প্রধান বিষয়বস্তু এড়িয়ে যান
যদি আপনি তাৎক্ষণিক বিপদে বা সংকটে থাকেন: বাংলাদেশে, Kaan Pete Roi, ফোন
+880 9612-119911 (Bangladesh's emotional support & suicide prevention helpline)। ভারতে: KIRAN Mental Health Helpline
1800-599-0019 (24/7, free), iCall
9152987821, Vandrevala Foundation
1860-2662-345। বাংলাদেশ/ভারতের বাইরে:
findahelpline.com। জীবনের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি: স্থানীয় জরুরি নম্বরে কল করুন — বাংলাদেশে
999, ভারতে
112।
স্টেম সেল প্রতিস্থাপন, যাকে প্রায়ই বোন ম্যারো প্রতিস্থাপন বলা হয়, রক্তের ক্যান্সার ও অন্যান্য গুরুতর রক্তজনিত রোগের ক্ষেত্রে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা হতে পারে। একই সঙ্গে এটি একজন মানুষের জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোর একটিও হতে পারে। দীর্ঘ সপ্তাহের বিচ্ছিন্নতা, অনিশ্চিত শরীরের অবস্থা, আর ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা, এসব মিলিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব পড়তে পারে, এমনকি যাদের আগে কখনো মানসিক সমস্যা ছিল না তাদের ক্ষেত্রেও। কী প্রত্যাশা করা উচিত তা আগেভাগে জানা, আর এই ধরনের প্রতিক্রিয়া যে সাধারণ, তা বোঝা, এই অভিজ্ঞতাকে কিছুটা সহজ করে তুলতে পারে।
হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন মানসিক ওঠানামা
গবেষকরা স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকার পুরো সময়কাল জুড়ে, ভর্তি হওয়ার মুহূর্ত থেকে শুরু করে প্রতিস্থাপনের আগের দিন, প্রতিস্থাপনের পরের প্রথম সপ্তাহ, এবং শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া পর্যন্ত রোগীদের পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন যে মেজাজ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্টভাবে বদলায়। ভর্তি হওয়ার সময় বিষণ্নতার লক্ষণ তুলনামূলকভাবে কম দেখা গিয়েছিল, কিন্তু প্রতিস্থাপনের প্রায় এক সপ্তাহ পরে তা অনেক বেশি দেখা যেতে শুরু করে, এবং ছাড়া পাওয়ার সময় তা কিছুটা কমে এলেও শুরুর অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে আসেনি। উদ্বেগের ক্ষেত্রে ভিন্ন একটি ধরন দেখা গিয়েছিল, প্রথম কয়েক দিন তা মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল, এরপর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় লক্ষণীয়ভাবে কমে যায়। যাদের শুরু থেকেই কষ্টের মাত্রা বেশি ছিল, তারা পুরো ভর্তি থাকার সময় জুড়ে অপেক্ষাকৃত বেশি কষ্টে থাকার প্রবণতা দেখিয়েছেন। অন্যভাবে বললে, অনেকের জন্যই মানসিকভাবে সবচেয়ে কঠিন সময়টি প্রতিস্থাপনের মুহূর্তটি নাও হতে পারে, বরং তার পরের সপ্তাহটিই হতে পারে, যখন শরীর সবচেয়ে কঠোরভাবে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করছে আর ফলাফল তখনও অনিশ্চিত মনে হয়।
প্রতিস্থাপনের সময় ও পরবর্তী সময়ে মোকাবিলার কৌশল
- প্রায় এক সপ্তাহ পরে মনখারাপের একটি পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত থাকুন প্রতিস্থাপনের ঠিক পরের দিনগুলোতে মেজাজ সহজ না হয়ে বরং কঠিন হতে পারে, এটা আগে থেকে জানা থাকলে সেই সময়টি সত্যিই এলে তা কম উদ্বেগজনক মনে হতে পারে। অনেকের কাছেই এটি প্রক্রিয়ার একটি পরিচিত অংশ, কিছু ভুল হয়ে যাওয়ার লক্ষণ নয়।
- আপনি এখন কোন পর্যায়ে আছেন তা চিহ্নিত করুন ভর্তি হওয়া, প্রতিস্থাপনের আগের দিন, শুরুর দিকের সেরে ওঠার দিনগুলো, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া, প্রতিটি পর্যায়ে আলাদা আলাদা মানসিক চাহিদা থাকে। নিজের কাছে বা কাছের কোনো মানুষের কাছে জোরে বলা যে আপনি এখন কোন পর্যায়ে আছেন, তা অভিভূত করা অনুভূতিগুলো বুঝতে সাহায্য করতে পারে।
- প্রয়োজন হওয়ার আগেই মানসিক সহায়তা চান সংকট তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই, প্রতিস্থাপন দলের কোনো কাউন্সেলর, সমাজকর্মী বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। অনেক কেন্দ্র নিজে থেকেই এই সহায়তা দিয়ে থাকে, আর তাড়াতাড়ি শুরু করলে তা সত্যিকারের পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
- বিচ্ছিন্নতার দিনগুলোতে একটু নিয়ম তৈরি করুন চিকিৎসাগত বিচ্ছিন্নতার সময় একটি দিন আরেকটি দিনের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। ঘুম থেকে ওঠার একটি নির্দিষ্ট সময়, অনুমতি থাকলে একটু হাঁটাহাঁটি, বা প্রতিদিন একই সময়ে কাছের কারো সঙ্গে কথা বলার মতো সাধারণ অভ্যাসগুলো মানসিক স্থিরতা দিতে পারে।
- ছাড়া পাওয়ার পরও কিছুটা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা মেনে নিন হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কিন্তু এটি যাত্রার শেষ নয়। এরপরও কিছু সময় লক্ষণ থাকতে পারে, আর তার মানে এই নয় যে সুস্থতা ঠিকভাবে হচ্ছে না। নিজেকে এই অনুমতি দিন যে সুস্থ হয়ে ওঠা ধীরে ধীরে ঘটবে।
প্রতিস্থাপনের আগে আপনার মানসিকতা কেন আপনার ধারণার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে
আরেকটি গবেষণায় অ্যালোজেনিক স্টেম সেল প্রতিস্থাপন করানো মানুষদের অনুসরণ করা হয়েছিল, এবং চিকিৎসা শুরু হওয়ারও আগে তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল তারা কতটা মনে করেন প্রতিস্থাপন তাদের জীবনে ব্যাঘাত ঘটাবে, এবং তারা এর থেকে কতটা উপকার আশা করেন। যারা শুরুতেই আরও বেশি নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা করেছিলেন, তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় আরও বেশি কর্মক্ষমতার সীমাবদ্ধতা, আরও বেশি বিষণ্নতা ও উদ্বেগ, এবং জীবনযাত্রার মানে নিম্নতার কথা জানিয়েছেন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এই প্রত্যাশাগুলো শুধু মেজাজের সঙ্গেই সম্পর্কিত ছিল না। যাদের প্রতিস্থাপনের উপকারিতা নিয়ে অধিকতর ইতিবাচক প্রত্যাশা ছিল, তাদের মধ্যে কয়েক মাস পরে অধিকতর সুস্থ প্রতিরোধব্যবস্থার সূচক দেখা গিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল শক্তিশালী লিম্ফোসাইট সংখ্যা ও কম প্রদাহ। এর মানে এই নয় যে শুধু মানসিকতাই ফলাফল নির্ধারণ করে, প্রতিস্থাপন যেকোনো অবস্থাতেই একটি গুরুতর চিকিৎসা প্রক্রিয়া হয়েই থাকে, তবে এটি ইঙ্গিত দেয় যে চিকিৎসা শুরুর আগে কোনো কাউন্সেলর বা সহায়তা দলের সাহায্যে ভয় ও প্রত্যাশাগুলো নিয়ে কাজ করা মানসিক ও শারীরিক, উভয় ধরনের সুস্থতাকেই সহায়তা করতে পারে।
সুখবর, মন ও শরীর উভয়েই ক্রমাগত সেরে উঠতে থাকে
শুধু সবচেয়ে কঠিন দিনগুলোর দিকেই মনোযোগ দেওয়া সহজ, কিন্তু সার্বিক প্রবণতা সুস্থতার দিকেই ইঙ্গিত করে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় নাগাদ উদ্বেগ অনেকটাই কমে আসে, আর বিষণ্নতার লক্ষণও, ধীরে হলেও, বাড়ি ফেরার আগেই উন্নতির দিকে যেতে শুরু করে। সুস্থতা হাসপাতালে থাকার সময়ের অনেক পরেও চলতে থাকে, আর প্রতিস্থাপনের অভিজ্ঞতা হয়েছে এমন অন্য মানুষদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, তা হোক কোনো আনুষ্ঠানিক সহযোগী সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে বা কোনো অনানুষ্ঠানিক অভিজ্ঞ সম্প্রদায়ের মাধ্যমে, শক্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার এই মাসগুলোকে কম একাকী মনে করাতে পারে।
সামনের পথের জন্য বাস্তবসম্মত পরামর্শ
- শারীরিক লক্ষণের পাশাপাশি নিজের মেজাজও লিখে রাখুন শুধু শারীরিক অবস্থা নয়, প্রতিদিন নিজের মানসিক অনুভূতি সম্পর্কে একটি সহজ টুকরো নোট আপনার চিকিৎসা দলকে ধরন বুঝতে এবং ঠিক সময়ে সহায়তা দিতে সাহায্য করতে পারে।
- যিনি আপনার দেখাশোনা করছেন তাকেও সঙ্গে নিন আপনাকে সহায়তা করা মানুষটিও একই রকম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাকে জানানো যে আপনি সত্যিই কেমন অনুভব করছেন, আর তার কাছে জিজ্ঞেস করা যে তিনি কেমন আছেন, দুজনকেই শক্তিশালী করতে পারে।
- প্রতিস্থাপনকে পরবর্তী সুস্থতার সময় থেকে আলাদা করে দেখুন প্রতিস্থাপন নিজেই প্রায়ই মাত্র কয়েক ঘণ্টার বিষয়, কিন্তু তার পরের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার সময়টিই যাত্রার অনেক দীর্ঘ অংশ। সেই অনুযায়ী প্রত্যাশা ঠিক করলে হতাশা কিছুটা কমতে পারে।
- আপনার কেন্দ্র কী ধরনের সহায়তা দেয় তা জিজ্ঞেস করুন অনেক প্রতিস্থাপন কর্মসূচিতে চিকিৎসা দলের মধ্যেই কাউন্সেলর, সমাজকর্মী, বা সহযোগী পরামর্শদাতা অন্তর্ভুক্ত থাকেন। কী কী সহায়তা পাওয়া যায় তা জিজ্ঞেস করা একটি যুক্তিসঙ্গত ও স্বাভাবিক অনুরোধ, কোনো বোঝা নয়।
- অন্ধকার চিন্তা এলে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য চান হাসপাতালে থাকার সময় হোক বা তার অনেক পরে, যেকোনো সময় যদি হতাশার অনুভূতি বা নিজেকে ক্ষতি করার চিন্তা আসে, তাহলে ওপরের ব্যানারে দেওয়া জরুরি সহায়তার বিকল্পগুলো অবিলম্বে ব্যবহার করুন।
এই পাতাটি সাধারণ তথ্য ও সহায়তার উদ্দেশ্যে তৈরি, এটি পেশাদার চিকিত্সা, আইনি বা মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শের বিকল্প নয়।